|
আপনি হয়ত বিশ্বাস করতে চাইবেন না কথাটা। আপনি বলবেন, “নাহ; বন্ধুত্ত্ব হয় তো!” ... হয়তবা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বলতে চাইবেন।
তাহলে অভিজ্ঞতাটাকে রিওয়াইন্ড করেন; আপনার সাথে কোন একটা মেয়ের পরিচয় হলো। হয়তবা কোচিং থেকে, কিংবা স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে অথবা ‘ফ্রেন্ড অফ ফ্রেন্ড’ থিওরিতে। পরিচিত হবার পর আপনারা চার-পাঁচজনের গ্রুপ ধরে প্রাইভেটের পর দেখা করতেন। ফুচকা খেতেন.. আড্ডা দিতেন। হৈ-হৈ-হুল্লোড়ে মেতে থাকতেন। হঠাৎ কোন একদিন, যেকোনভাবেই হোক.. আপনি আর আপনার একটা বান্ধবি একা দেখা হয়ে গেল। আড্ডা শুরু করলেন। গ্রুপের আড্ডায় যে হুল্লোড়টা হয়, সেটা দুইজনের আড্ডায় হয় না... এটা স্বাভাবিক। সাধারণভাবেই, সেদিন থেকেই আপনারা দুইজন ভাল ফ্রেন্ড। আপনি ছেলে ভালো.. মেয়েটা টের পেল। আর সে যে মেয়ে ভাল.. এটা আপনি টের পেলেন। হয়তবা ফ্রেন্ডশিপের গভীরতায়, আপনারা ‘তুমি’ থেকে ‘তুই’তে পৌছেও গেলেন। ‘তুই’তে এসে নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতাটা স্বাভাবিকভাবেই আরেকটু বেড়ে যায়। মেয়েটা দেখতেও হয়ত সুন্দরী। তার উপর আপনার কোন ধরণের বাজে নজর আদৌ নেই! ... এবার বুকে হাত রেখে বলেন, “পড়ার টেবিলে পড়তে পড়তে, হঠাৎ করে কি একবারও মনে হয়নি.. মানুষটাকে আপনি ভালবাসতে পারেন? কিংবা.. ‘ভালবাসলে খারাপ হয় না; মেয়েটা ভালোই’ ...এমন ভাবেননি?” হুম ভেবেছেন; একটাবারের জন্য হলেও ভেবেছেন। কিংবা.. তার উপর, এক প্রকারের অধিকার খাটাতে ইচ্ছে করেছেই হয়ত কখনো। আপনি হয়ত বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কের সম্মানে, তার আপনার নিজের ব্যাপারে পরিস্কার করতে পারলেন না। সেই কষ্ট আপনার থেকেই গেল। কিংবা.. আপনি নিজের ব্যাপারে পরিস্কার করলেন, তখন খুব কম ক্ষেত্রেই এই ভালবাসাগুলো পূর্ণতা পায়। বাকিটা সময়, আপনাকে ঝাড়ি খেতে হবে... “এই সুন্দর সম্পর্কটাকে এভাবে ভেবেছিস এতদিন? ছিঃ” এবার আসি, মেয়েদের ফ্যাক্টে! মেয়েরা সাধারণ কেয়ারিং পাগল হয়। কোন মানুষকে যদি সে নিজের প্রতি কেয়ারফুল দেখে, তাদের প্রতি একটা আলাদা অনুভূতি জন্মানোটা বেশ স্বাভাবিক... হয়ও তাই! এভাবেই তার কোন এক ক্লোজ ফ্রেন্ড ঠিকঠাকভাবে নিতে থাকে তার কেয়ার। নিজের অজান্তেই, মেয়েটিও দুর্বল হতে থাকে ছেলেটির উপর। এই বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কটা অ্যাবস্ট্রাক্ট স্টাইলে, যখন দুর্বলতার সম্পর্কে টার্ন করে, তখন সম্পর্কের ধারা পরিবর্তন হতে থাকে। এবং... দিনশেষে দেখা যায়, প্রতিটি ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কই এভাবে টার্ন-ওভার করেছে। আর এই ক্ষেত্রে, অনেক সম্পর্কের ‘হ্যাপি এন্ডিং’ হয়... অনেকক ক্ষেত্রে উদ্ভব হয় ‘বিরহ’ শব্দটির। ‘হ্যাপি এন্ডিং’ হলে তো কথাই নেই; কিন্তু যেকোন একজনের প্রতি আরেকজনের দুর্বলতা থাকায়, ‘বিরহ’ শব্দটির আগমনে, যেকোন রকমেরই দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে! নেক্সট প্রশ্ন দাড়াতে পারে... “এই ব্যাপারগুলোকে এত সিরিয়াসভাবে ধরা হচ্ছে কেন?” ...হ্যাঁ; নরমাল রিলেশনগুলো থেকে এটা ড্যাম সিরিয়াস। তবে এখানে, দুইটা ক্ষেত্রের মধ্যে পার্থক্য করা যেতে পারে; নরমালি লাভ রিলেশনগুলোর ক্ষেত্রে, ছেলে অথবা মেয়ে, আরেকজনের সামনে শুরু থেকেই লাভিং অ্যাটমোস্ফিয়ারেই অবস্থান করে। এখানে, বিপরীত মানুষটাও ধরতে পারে যে ‘সেই মানুষটা তার জীবনের ভালবাসার জায়গাটা চায়’ ... সুতরাং, তার যদি ইচ্ছে থাকে, তবেই সে তাকে কাছে টানবেন, নাহলে দূরে সরিয়ে দেবেন। কিন্তু বন্ধুত্ত্বের সম্পর্কের ক্ষেত্রে, কোন বাধ-বিচার একদমই করা হয়না। বন্ধু হিসেবে আমরা সবাইই কমবেশি যথেষ্টই ভাল। আর তাছাড়া, ব্যক্তি জীবনে প্রতিটি মানুষই কোন না কোন একটা দিক থেকে ইম্প্রেসিভ। এই ব্যাপারগুলো বন্ধুত্ত্বের গভীরতায় চেনা যায়.. জানা যায়। কোন বন্ধুকে কাছে টানতে কেউ দ্বিধা করে না। এমনকি.. আপাত দিক থেকে বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড-এর চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে এই ‘বন্ধু’ জাতিটা। আর এত কাছাকাছি থাকা একটা মানুষ.. তার সাথে কাটানো মুহুর্ত.. হাসি-ঠাট্টা, যখন সে কাছে থাকে না, তখন বেশ ভালোই কষ্ট দেয় নিজেকে! ‘ছেলে এবং মেয়ে’ বন্ধুত্ত্বের ক্ষেত্রে, সম্পর্কের ইতিটা বন্ধুত্ত্ব দিয়েই টানা হয়েছে, এটা ব্যতিক্রম কেইস; রেয়ার। কিন্তু দুর্ঘটনার মাধ্যমেই এমন সম্পর্কের ইতি টানে... বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। আর ‘ব্যতিক্রম’ কখনো ‘উদাহরণ’ হতে পারে না। |
Labels: ছেলে আর মেয়ের মধ্যে কক্ষনো বন্ধুত্ত্ব হয় না









comment closed