আজ যারা প্রেমিক-প্রেমিকা একদিন তারা স্বামী-স্ত্রী
হিসেবে সংসার জীবন শুরু করবেন এটাই প্রকৃত প্রেমের পরিণতি। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে
অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে প্রেমের এই চূড়ান্ত পরিণয়ে পৌঁছার আগেই দুজন দুজনের কাছ থেকে
আলাদা হয়ে যান। আবার কিছু কিছু প্রেম রয়েছে যেগুলোর ভবিষ্যৎই নিশ্চিত ব্রেকআপ।
আসুন সেরকম কিছু প্রেম সম্পর্কে জেনে নিই।
সামাজিক স্ট্যাটাসের
পার্থক্য
প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সামাজিক স্ট্যাটাসের পার্থক্য যতই থাক
তাদের মধ্যে মিলন ঘটবেই। এটা সিনেমা-নাটকে পুরোপুরি সম্ভব হলেও বাস্তবে কতটা সম্ভব
তা আমরা অনেকেই জানি। জানা সত্ত্বেও আবেগের বশে অনেকে এই ধরনের প্রেমের সম্পর্কে
জড়িয়ে পড়েন এবং ভবিষ্যতে মনোকষ্ট নিয়ে একে অপরের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। অনেক
সময় দেখা যায় ছেলে-মেয়ে পালিয়ে গিয়ে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন। একসময় পরিবার
ভুলিয়ে ভালিয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে আনলেও পরবর্তীতে ছেলে বা মেয়ের ব্রেন ওয়াশ করে
তাদেরকে আলাদা করে দেন। আর যদিও বা মেনে নেন তাহলে সারা জীবন মাথা নিচু করেই কাটাতে
হয় এবং নানা কটু কথা শুনতে হয়।
ওয়ানসাইড লাভ:
আপনি ভালোবাসেন
কিন্তু সে আপনাকে ভালোবাসে না। এক্ষেত্রে অনেকে ভয়-ভীতি ও ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে
জোরপূর্বক ভালোবাসা আদায় করেন। জোর করে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গ পাওয়া যায় কিন্তু
মন থেকে ভালোবাসা পাওয়া যায়। একটা সময় সুযোগ বুঝে সে অবশ্যই আপনাকে ছেড়ে চলে
যাবে। কেননা এই সম্পর্কের প্রতি আপনি আন্তরিক সে নন। তাই প্রথমদিকে আপনার ভালোবাসা
ফিরিয়ে দেওয়াতে আপনি যতটা কষ্ট পেয়েছেন এখন চলে যাওয়ার পর তার চেয়ে বহুগুণ
কষ্ট আপনাকে বয়ে বেড়াতে হবে। তাই ক্ষণিকের ভালোলাগার জন্য ভবিষ্যতের কষ্ট কাঁধে
না নেওয়াই ভালো।
পুরনো প্রেম ভুলে থাকার জন্য:
অনেকে আছেন পুরনো
প্রেমকে হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এই সময় সে অনুভব করে নতুন একজন
সঙ্গীর। এই তাড়না থেকেই নতুন একজনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রথম প্রথম
প্রেমিক বা প্রেমিকার সব দোষ-ত্রুটি ভালো লাগলেও একসময় যখন পুরনো প্রেমের কথা ভুলে
যাবে তখন বর্তমান প্রেমিক বা প্রেমিকার সকল দোষ-ত্রুটিই চোখে ধরা পড়বে। তখন এদিকও
ভালো লাগবে না, ওদিকও ভালো লাগবে না। জীবন হয়ে উঠবে দুর্বিষহ। এই রকম পরিস্থিতিতে
ব্রেকআপ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
ভালোবাসা দিয়ে শুধরে নেয়া:
অনেকে
আছেন ভালোবাসা দিয়ে নিজের মনের মানুষটিকে শুধরে নেওয়ার জন্য তার সাথে প্রেমের
সম্পর্কে জড়ান। বিশেষ করে মেয়েরা সামাজিকভাবে খারাপ হিসেবে পরিচিত ছেলেদের প্রেমে
পড়েন একমাত্র সহানুভূতি ও তাদের শুধরে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। তবে বেশিরভাগ মেয়েই বখে
যাওয়া এসব ছেলেদের সেই রাস্তা থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হন এবং এক সময় তীব্র মানসিক
যন্ত্রণা নিয়ে সে নিজেই এই পথ থেকে সরে আসেন।
শারীরিক সম্পর্ক নির্ভর
প্রেম:
এই ধরনের প্রেমে মনের দিক থেকে কোনো প্রকার চাহিদা থাকে না। সকল
চাহিদা শুধুমাত্র শরীরের প্রতি। পশুবৃত্তিক এই চাহিদা পূরণ করার উদ্দেশ্যেই তারা
প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এবং সেই চাহিদা পূরণ হলে কৌশলে কেটে পড়েন।